খুলনা, বাংলাদেশ | ৬ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২১শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

Breaking News

  দেয়াপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে মানববন্ধন, সহকারী শিক্ষককে ঘিরে আপত্তিকর ভিডিও ভাইরালের অভিযোগ।।
  যাদুকাটার বৌলাই নদীতে হাউসবোট থেকে এক শিশু নিখোঁজ
  বীরগঞ্জে ডেকোরেটর শ্রমিক ইউনিয়নের পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত
  ঈদগাঁওতে ভাদ্র মাসের শুরুতে মাঠ মাঠে আমন ধান রোপনে মহাব্যস্ত কৃষকরা
  ধামইরহাটে শ্বাসরোধে হত্যা আগুনে পুডিয়ে দেওয়ার ২ জন গ্রেফতার
  রামুর ঈদগড়ে জেল থেকে বেরিয়ে ফের মাদক ব্যবসায় সক্রিয় ডজন মাদক ব্যবসায়ী, উদ্বেগে এলাকাবাসী
  বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন:
  দিনাজপুর বীরগঞ্জে বিপর্ণা নামীয় এক কিশোরীর রহস্য জনক ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
  জামিনে মুক্তি পেয়েছেন সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক
  গোমস্তাপুরে ৭ লিটার চোলাইমদসহ নারী গ্রেফতার

সিজারে জন্মের পর শিশুর শরীরে ক্ষত, চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ

[ccfic]

ডেস্ক :

যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে সন্তান প্রসব করাতে গিয়ে এক নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্বজনদের অভিযোগ, বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) অস্ত্রোপচারের সময় চিকিৎসক-নার্সদের অবহেলা ও অসতর্কতায় নবজাতকের মাথা, ঠোঁটসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে কেটে যাওয়ায় শিশুটির মৃত্যু হয়।এ ঘটনায় হাসপাতালে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। স্বজনরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, শরীরে থাকা ক্ষতগুলো সিজারের সময় কেটে যাওয়ার কারণে নয়। সিজারের আগেই অন্য কোনো কারণে নবজাতকের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।মৃত নবজাতকের বাবা সাগর হাসান ও মা তাজমিরা যশোর সদর উপজেলার রায়মানিক কচুয়া গ্রামের বাসিন্দা।হাসপাতাল ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বৃহস্পতিবার ভোরে তাজমিরার প্রসববেদনা উঠলে পরিবারের সদস্যরা তাকে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসেন। জরুরি বিভাগের চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাকে দ্রুত লেবার ওয়ার্ডে ভর্তি করেন। পরে চিকিৎসক সিজারিয়ান অপারেশনের পরামর্শ দেন। সকাল ১০টার দিকে গাইনি বিভাগের কনসালট্যান্ট ডা. আয়েশা আক্তারের নেতৃত্বে তাজমিরার অস্ত্রোপচার করা হয়।স্বজনদের ভাষ্য, অপারেশনের পর চিকিৎসকেরা ছেলে সন্তান হয়েছে এবং নবজাতকের অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানান। স্বজনরা নবজাতককে দেখতে চাইলে দেখতে দেওয়া হয়নি। পরে সন্দেহ হলে তারা লেবার ওয়ার্ডে গিয়ে শিশুটিকে দেখতে চান। একপর্যায়ে নার্সদের কাছ থেকে তারা জানতে পারেন মৃত সন্তান জন্ম নিয়েছে।মৃত নবজাতকের খালা রহিমা খাতুন অভিযোগ করেন, কয়েক দিন আগে তার বোন তাজমিরাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা মা ও সন্তান দুজনই ভালো আছেন বলে জানিয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার প্রসববেদনা ওঠার পর চিকিৎসকের পরামর্শে সিজার করা হয়। কিন্তু অস্ত্রোপচারের পর একবারের জন্যও শিশুটিকে পরিবারের কাছে দেখানো হয়নি।পরে জোর করে শিশুটিকে দেখতে গিয়ে তার মাথা, ঠোঁটসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে কাটাছেঁড়ার চিহ্ন দেখতে পান তারা।নবজাতকের বাবা সাগর হাসান বলেন, সিজারের টেবিলে নেওয়ার প্রায় তিন ঘণ্টা পর মাথায় কেটে যাওয়া অবস্থায় আমাদের সন্তানকে দেওয়া হয়। এরপরও নবজাতকের চিকিৎসায় অবহেলা করা হয়েছে। চিকিৎসকদের অবহেলার কারণেই আমার সন্তান মারা গেছে বলে আমি মনে করি। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, এটি আমাদের প্রথম সন্তান। দুই পরিবারে আনন্দের বন্যা বয়ে যাচ্ছিল। এখন সবাইকে কী জবাব দেব? লেবার ওয়ার্ডে তাজমিরা সুস্থ থাকলেও এখনো তাকে এসবের কিছু জানানো হয়নি। শুধু বলা হয়েছে, ছেলে হয়েছে, একটু অসুস্থ চিকিৎসা চলছে।এদিকে হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. আহসান কবির বাপ্পী স্বজনদের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, নবজাতকের শরীরে যে ক্ষতচিহ্ন দেখা যাচ্ছে, সেগুলো সিজারের সময় কেটে যাওয়ার কারণে হয়েছে বলে তারা মনে করছেন না। তাদের ধারণা, সিজারের আগেই অন্য কোনো কারণে শিশুটির মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।তিনি বলেন, স্বজনদের লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। তদন্ত করে নবজাতকের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং চিকিৎসক-নার্সসহ সংশ্লিষ্টদের অবহেলা ছিল কি না তা খতিয়ে দেখা হবে।

আরও সংবাদ

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

©2025 khulnarsamayerkhobor .com

Developed By: ShimantoIT